Lumina
Luke

Luke 10

Luke 10·Bengali Bible

1তিনি তাঁদের বললেন, ‘শস্য প্রচুর হয়েছে, কিন্তু তা কাটার জন্য মজুরের সংখ্যা অল্প, তাই শস্যের যিনি মালিক তাঁর কাছে প্রার্থনা কর, য়েন তিনি তাঁর ফসল কাটার জন্য মজুর পাঠান৷

2যাও! আর মনে রেখো, নেকড়ে বাঘের মধ্যে ভেড়ার মতোই আমি তোমাদের পাঠাচ্ছি৷

3তোমরা টাকার বটুযা, থলি বা জুতো সঙ্গে নিও না এবং পথের মধ্যে কাউকে শুভেচ্ছা জানিও না৷

4য়ে বাড়িতে তোমরা প্রবেশ করবে সেখানে প্রথমে বলবে, ‘এই গৃহে শান্তি হোক!’

5সেখানে যদি শান্তির পাত্র কেউ থাকে, তবে তোমাদের শান্তি তার সহবর্তী হবে৷ কিন্তু যদি সেরকম কেউ না থাকে, তাহলে তোমাদের শান্তি তোমাদের কাছে ফিরে আসবে৷

Luke 10 illustration - Luke Chapter 10

6য়ে বাড়িতে যাবে সেখানেই থেকো, আর তারা যা খেতে দেয় তাই খেও, কারণ য়ে কাজ করে সে বেতন পাবার য়োগ্য৷ এ বাড়ি সে বাড়ি করে ঘুরে বেড়িও না৷

7তোমরা যখন কোন নগরে প্রবেশ করবে তখন সেই নগরের লোকেরা যদি তোমাদের স্বাগত জানায়, তবে সেখানকার লোকেরা তোমাদের সামনে যা কিছু ধরে, তা খেও৷

8সেই নগরের রোগীদের সুস্থ কোর ও সেখানকার লোকদের বোল, ‘ঈশ্বরের রাজ্য তোমাদের কাছে এসে পড়েছে৷’

9তোমরা কোন নগরে প্রবেশ করলে যদি সেই নগরের লোকেরা তোমাদের স্বাগত না জানায়, তবে সেখানকার রাস্তায় বেরিয়ে এসে তোমরা বোল,

10‘এমনকি তোমাদের নগরের য়ে ধূলো আমাদের পায়ে লেগেছে তা আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে ঝেড়ে ফেললাম; তবে একথা জেনে রেখো য়ে ঈশ্বরের রাজ্য তোমাদের কাছে এসে গেছে৷’

Luke 10 illustration - Luke Chapter 10

11আমি তোমাদের বলছি, সেই দিন এই নগরের থেকে সদোমের লোকদের অবস্থা অনেক বেশী সহনীয় হবে৷’

12‘কোরাসীন ধিক্ তোমাকে! বৈত্‌সৈদা ধিক্ তোমাকে! তোমাদের মধ্যে য়ে সব অলৌকিক কাজ করা হয়েছে তা যদি সোর ও সীদোনে করা হত, তবে সেখানকার লোকেরা অনেক আগেই চটের বস্ত্র পরে মাথায় ভস্ম ছিটিয়ে অনুতাপ করতে বসত৷

13যাইহোক, বিচারের দিনে সোর সীদোনের অবস্থা বরং তোমাদের চেয়ে অনেক সহনীয় হবে৷

14তুমি কফরনাহূম! তুমি কি স্বর্গ পর্যন্ত উন্নীত হবে? না! তোমাকে নরক পর্যন্ত নামানো যাবে!

15‘যাঁরা তোমাদের কথা শোনে, তারা আমারই কথা শোনে; আর যাঁরা তোমাদের অগ্রাহ্য় করে, তারা আমাকেই অগ্রাহ্য় করে৷ যাঁরা আমাকে অগ্রাহ্য় করে, তারা যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁকেই অগ্রাহ্য করে৷’

Luke 10 illustration - Luke Chapter 10

16এরপর সেই বাহাত্তরজন আনন্দের সঙ্গে ফিরে এসে বললেন, ‘প্রভু, আপনার নামে এমন কি ভূতরাও আমাদের বশ্যতা স্বীকার করে!’

17তখন যীশু তাঁদের বললেন, ‘আমি শয়তানকে বিদ্য়ুত্ ঝলকের মতো আকাশ থেকে পড়তে দেখলাম৷

18শোন! সাপ ও বিছেকে পায়ে দলবার ক্ষমতা আমি তোমাদের দিয়েছি; আর তোমাদের শত্রুর সমস্ত শক্তির ওপরে ক্ষমতাও আমি তোমাদের দিয়েছি; কোন কিছুই তোমাদের ক্ষতি করতে পারবে না৷

19তবু আত্মারা য়ে তোমাদের বশীভূত হয়, এ জেনে আনন্দ কোর না; কিন্তু স্বর্গে তোমাদের নাম লেখা হয়েছে বলে আনন্দ কর৷’

20ঠিক সেই মুহূর্তে পবিত্র আত্মার আনন্দে পূর্ণ হয়ে যীশু বললেন, ‘পিতা, আমি তোমার প্রশংসা করি, কারণ স্বর্গ ও পৃথিবীর প্রভু, তুমি এসব বিষয় জ্ঞানীগুণী ও বুদ্ধিমান লোকদের কাছে গোপন রেখে শিশুদের কাছে প্রকাশ করেছ৷ হ্যাঁ, পিতা, এতেই তোমার আনন্দ৷

Luke 10 illustration - Luke Chapter 10

21‘আমার পিতা আমায় সবই দিয়েছেন৷ পিতা ছাড়া আর কেউ জানে না পুত্র কে, আমার পুত্র ছাড়া আর কেউ জানে না পিতা কে৷ এছাড়া পুত্র যার কাছে পিতাকে প্রকাশ করতে ইচ্ছা করেন, কেবল সে-ই জানে৷’

22এরপর শিষ্যদের দিকে ফিরে তিনি একান্তে তাঁদের বললেন, ‘তোমরা যা দেখছ, য়ে চোখ তা দেখতে পায় তা ধন্য!

23কারণ আমি তোমাদের বলছি, তোমরা যা দেখছ, অনেক ভাববাদী ও রাজা তা দেখার ইচ্ছা করলেও তা দেখতে পান নি; তোমরা যা শুনছ, তা শোনার ইচ্ছা করলেও তাঁরা তা শুনতে পান নি৷’

24এরপর একজন ব্যবস্থার শিক্ষক যীশুকে পরীক্ষার ছলে জিজ্ঞাসা করল, ‘গুরু, অনন্ত জীবন লাভ করার জন্য আমায় কি করতে হবে?’

25যীশু তাকে বললেন, ‘বিধি-ব্যবস্থায় এ বিষয়ে কি লেখা আছে? সেখানে তুমি কি পড়েছ?’

Luke 10 illustration - Luke Chapter 10

26সে জবাব দিল, ‘তোমার সমস্ত অন্তর, মন, প্রাণ ও শক্তি দিয়ে অবশ্যই তোমার প্রভু ঈশ্বরকে ভালবাসো৷’আর ‘তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতো ভালবাসো৷”

27তখন যীশু তাকে বললেন, ‘তুমি ঠিক উত্তরই দিয়েছ; ঐ সবই কর, তাহলে অনন্ত জীবন লাভ করবে৷’

28কিন্তু সে নিজেকে ধার্মিক দেখাতে চেয়ে যীশুকে জিজ্ঞেস করল, ‘আমার প্রতিবেশী কে?’

29এর উত্তরে যীশু বললেন, ‘একজন লোক জেরুশালেম থেকে যিরীহোর দিকে নেমে যাচ্ছিল, পথে সে ডাকাতের হাতে ধরা পড়ল৷ তারা লোকটির জামা কাপড় খুলে নিয়ে তাকে মারধোর করে আধমরা অবস্থায় সেখানে ফেলে রেখে চলে গেল৷

30ঘটনাক্রমে সেই পথ দিয়ে একজন ইহুদী যাজক যাচ্ছিল, যাজক তাকে দেখতে পেয়ে পথের অন্য ধার দিয়ে চলে গেল৷

Luke 10 illustration - Luke Chapter 10

31সেই পথে এরপর একজন লেবীয়এল৷ তাকে দেখে সেও পথের অন্য ধার দিয়ে চলে গেল৷

32কিন্তু একজন শমরীয় ঐ পথে য়েতে য়েতে সেই লোকটির কাছাকাছি এল৷ লোকটিকে দেখে তার মনে মমতা হল৷

33সে ঐ লোকটির কাছে গিয়ে তার ক্ষতস্থান দ্রাক্ষারস দিয়ে ধুয়ে তাতে তেল ঢেলে বেঁধে দিল৷ এরপর সেই শমরীয় লোকটিকে তার নিজের গাধার ওপর চাপিয়ে একটি সরাইখানায় নিয়ে এসে তার সেবা যত্ন করল৷

34পরের দিন সেই শমরীয় দুটি রৌপ্যমুদ্রা বের করে সরাইখানার মালিককে দিয়ে বলল, ‘এই লোকটির যত্ন করবেন আর আপনি যদি এর চেয়ে বেশী খরচ করেন, তবে আমি ফিরে এসে আপনাকে তা শোধ করে দেব৷’

35এখন বল, ‘এই তিনজনের মধ্যে সেই ডাকাত দলের হাতে পড়া লোকটির প্রকৃত প্রতিবেশী কে?’

Luke 10 illustration - Luke Chapter 10

36সে বলল, ‘য়ে লোকটি তার প্রতি দযা করল৷’তখন যীশু তাকে বললেন, ‘সে য়েমন করল, যাও তুমি গিয়ে তেমন কর৷’

37এরপর যীশু ও তাঁর শিষ্যরা জেরুশালেমের পথে য়েতে য়েতে কোন এক গ্রামে প্রবেশ করলেন৷ সেখানে মার্থা নামে একজন স্ত্রীলোক তাঁদের সাদর অভ্যর্থনা করলেন৷

38মরিয়ম নামে তাঁর একটি বোন ছিল, তিনি যীশুর পায়ের কাছে বসে তাঁর শিক্ষা শুনছিলেন৷

39কিন্তু খাওযা-দাওযার নানা রকম আযোজন করতে মার্থা খুবই ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন৷ তিনি যীশুর কাছে এসে বললেন, ‘প্রভু, আপনি কি দেখছেন না, আমার বোন সমস্ত কাজ একা আমার ঘাড়ে ফেলে দিয়েছে? ওকে বলুন ও য়েন আমায় সাহায্য করে৷’

40প্রভু তখন মার্থাকে বললেন, ‘মার্থা, মার্থা তুমি অনেক বিষয় নিয়ে বড়ই উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত হয়ে পড়েছ৷

Luke 10 illustration - Luke Chapter 10

41কিন্তু কেবলমাত্র একটা বিষয়ের প্রযোজন আছে৷ আর মরিয়ম সেই উত্তম বিষয়টি মনোনীত করেছে, যা তার কাছ থেকে কখনও কেড়ে নেওযা হবে না৷’

42যীশু এক জায়গায় প্রার্থনা করছিলেন৷ প্রার্থনা শেষ হলে পর তাঁর একজন শিষ্য এসে তাঁকে বললেন, ‘প্রভু, য়োহন য়েমন তাঁর শিষ্যদের প্রার্থনা করতে শিখিয়েছিলেন, আপনিও তেমনি আমাদের প্রার্থনা করতে শেখান৷’

Chapter Complete

You have read Luke 10

42 verses