1উত্সবের গৃহে যাওয়ার চেয়ে শোকের গৃহে যাওয়া ভাল| কেন? কারণ শোকের গৃহে লোকরা সত্যিই জানবে য়ে সব মানুষই মরণশীল|
2আনন্দের চেয়ে দুঃখ শ্রেয়| কেন? যখন আমরা দুঃখ পাই তখন আমাদের হৃদয় শুদ্ধ হয়|
3য়ে জ্ঞানী সে মৃত্যুর কথাও ভাবে কিন্তু মূর্খ শুধুই আমোদ-প্রমোদের কথা চিন্তা করে|
4এক জন মূর্খের দ্বারা প্রশংসিত হওয়ার চেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তির দ্বারা সমালোচিত হওয়াও শ্রেয়|
5মূর্খের অট্টহাসি হল পাত্রের নীচে জ্বলন্ত কাঁটার মতো যা এতই তাড়াতাড়ি পুড়ে যায় য়ে পাত্রটি উত্তপ্ত পর্য়ন্ত হয় না| এটাও অসার|

6এক জন জ্ঞানী যদি কারো কাছ থেকে যথেষ্ট অর্থ পায় তবে সে তার জ্ঞানও ভুলে যায়| অর্থ তার বোধশক্তি নষ্ট করে দেয়|
7কোন কিছু নতুন করে আরম্ভ করবার চেয়ে তাকে শেষ করা ভাল| অধৈর্য়্য় ও অহঙ্কারী হওয়ার চেয়ে শান্ত ও ধৈর্য়্য়শীল হওয়া ভাল|
8হঠাত্ রেগে ওঠা উচিত্ নয়| কারণ রাগ করা মূর্খামি|
9একথা বলা উচিত্ নয়, “এখনকার থেকে আগের সময় কেন বেশী ভাল ছিল|” কারণ জ্ঞান আমাদের এই প্রশ্নের দিকে চালিত করে না|
10সম্পত্তি থাকার চেয়ে জ্ঞান থাকা ভাল| যথেষ্ট সম্পদ ছাড়াও জ্ঞানী ব্যক্তিরা প্রকৃতপক্ষে বেশী লাভবান হন|

11প্রজ্ঞা ও সম্পদ উভয়েই তোমাকে রক্ষা করতে পারে| কিন্তু য়ে জ্ঞান প্রজ্ঞার মাধ্যমে লাভ করা যায় তা তোমার জীবনকে দীর্ঘ করতে পারে!
12ঈশ্বর যা করেছেন সে দিকে তাকিযে দেখ| যদি কোন কিছু তোমার ভুলও মনে হয় তবুও তুমি তা পালটাতে পারবে না!
13জীবন সুন্দর, তাকে উপভোগ কর| কিন্তু জীবন যখন কষ্টকর হবে তখন মনে রেখো ঈশ্বর আমাদের সুসময় ও দুঃসময় দুইই দেন এবং কেউই জানে না ভবিষ্যতে কি হতে পারে|
14আমার এই অযোগ্য জীবনে আমি অনেক কিছু দেখেছি এবং আমি আরো দেখেছি কি ভাবে দুষ্ট লোক দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে| অথচ ধার্মিক লোক অল্প বয়সে মারা যায়|
15কেন আত্মহনন করবে? কখনও খুব ভালও হবে না বা খুব খারাপও হবে না| বেশী জ্ঞানী বা বেশী মূর্খ কোনটাই হবে না|

16কেন তুমি তোমার অন্তিম সময়ের আগে মারা যাবে?
17তুমি এদিক ওদিক দুদিকে থাকার চেষ্টা কর| এমনকি ঈশ্বরের অনুসরণকারীরাও কিছু ভাল ও কিছু মন্দ কাজ করে থাকে|
18প্রজ্ঞা মানুষকে শক্তি জোগায়| এক জন জ্ঞানী ব্যক্তি শহরের দশ জন শাসকের চেয়ে বেশী শক্তিশালী|
19নিশ্চিত ভাবে, এই ভূমণ্ডলে এমন এক জনও ধার্মিক ব্যক্তি নেই য়ে কোন অন্যায় করে নি|
20মানুষের সব কথায় কান দিও না| তুমি হয়তো শুনবে তোমার ভৃত্য তোমার নিন্দা করছে|

21এবং তুমি জান য়ে তুমি নিজেও অনেক সময় অন্যদের বদনাম করেছ|
22আমি আমার জ্ঞান দিয়ে এই সমস্ত কিছু ভেবে দেখেছি| আমি সত্যিকারের জ্ঞানলাভ করতে চেয়েছি| কিন্তু তা অসম্ভব|
23আমি সমস্ত জিনিসের অস্তিত্বের ধরণ বুঝতে পারি না| এটা কারো পক্ষে বুঝে ওঠা খুবই কঠিন|
24আমি অধ্যযণ করেছি ও অনেক চেষ্টা করেছি সত্যিকারের জ্ঞান খুঁজে পেতে| আমি সব কিছুর ভেতরকার ব্যাখ্যা খুঁজে পেতে চেয়েছি| আমি কি শিখলাম? আমি জানলাম অসত্ হওয়া বোকামো, মূর্খের মতো কাজ করা পাগলামো|
25আমি আরো দেখেছিলাম য়ে কিছু নারী হল ভয়ঙ্কর এক ফাঁদের মতো, তাদের হৃদয় জালের মতো ও বাহু শিকলের মতো| এই রকম নারীর ফাঁদে পড়ার চেয়ে মৃত্যুও শ্রেয়| য়ে ঈশ্বরকে অনুসরণ করে সে এদের থেকে দূরে থাকবে| কিন্তু এক জন পাপী এদের হাতে ধরা পড়বে|

26উপদেশক বলল, “আমি এই সমস্ত কিছু য়োগ করে দেখতে চেয়েছিলাম কোন উত্তর পাওয়া যায় কিনা|
27আমি এখনও উত্তরের অপেক্ষায রযেছি| আমি কেবল মাত্র একটি জিনিষ খুঁজে পেলাম| হাজার জনের মধ্যে এক জন ভাল মানুষ আছে| কিন্তু আমি এক জনও ভাল মহিলাকে খুঁজে পাই নি|
28আমি আরো একটা জিনিস শিখেছিলাম: “ঈশ্বরই সব ভালো মানুষ তৈরী করেন| কিন্তু মানুষ খারাপ পথে চালিত হয়|”
29কেউই এক জন জ্ঞানী ব্যক্তির মতো করে কোন জিনিসকে বুঝতে বা ব্যাখ্যা করতে পারবে না| তার জ্ঞানই তাকে সুখী করবে| একমাত্র জ্ঞানই দুঃখকে সুখে পরিণত করতে পারে|
You have read Ecclesiastes 7
29 verses