1এদিকে রাজা শলোমনের মৃত্যুর পর তাঁকে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে সমাধিস্থ করা হলে নতুন রাজা হলেন তার পুত্র রহবিয়াম|
2ইস্রায়েলের সমস্ত বাসিন্দা রহবিয়ামকে রাজপদে অধিষ্ঠিত করতে শিখিমে গিয়েছিল| কারণ রহবিয়াম তখন সেখানেই ছিল| সকলে রহবিয়ামকে বলল,
3“আপনার পিতা আমাদের খাটিযে খাটিযে জীবন দুর্বিসহ করে তুলেছিলেন| আপনি দয়া করে আমাদের কাজের বোঝা একটু হাল্কা করে দিলেই আমরা আপনার হয়ে কাজ করব|”
4রহবিয়াম তাদের উত্তর দিলেন, “তোমরা তিনদিন পরে আমার কাছে এস| তখন আমি আমার সিদ্ধান্ত তোমাদের জানাব|” একথা শুনে সবাই ফিরে গেল|
5শলোমনের য়ে সমস্ত প্রবীণ পরামর্শদাতা তখনও জীবিত ছিলেন, রাজা রহবিয়াম তাদের তাঁর কর্তব্য কর্ম সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন, “আমার এক্ষেত্রে কি করা উচিত্? আমি এদের কি বলব?

6প্রবীণরা তাঁকে বললেন, “তুমি যদি আজ ওদের কাছে দাসের মতো হও, ওরা সত্যি তোমার সেবা করবে| তুমি যদি ওদের সঙ্গে দয়াপরবশ হয়ে কথা বলো, তাহলে ওরা চির দিনই তোমার হয়ে কাজ করবে|”
7কিন্তু রহবিয়াম এই পরামর্শে কর্ণপাত করলো না| তিনি তাঁর বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে পরামর্শ করলেন|
8সে তাদের বলল, “লোকরা বলছে, ‘আপনার পিতা যা কাজ দিতেন তার চেয়েও আমাদের হাল্কা কাজ দিন|’ কি করা যায় বলো তো? আমি এখন ওদের কি বলি?”
9রাজার বন্ধুরা রহবিয়ামকে বলল, “শোন কথা! ওরা নাকি বলছে তোমার পিতা ওদের বেশী খাটাতেন| তুমি কেবল মাত্র ওদের ডেকে বলে দাও, ‘দেখ হে, আমার কড়ে আঙ্গুল আমার পিতার পুরো দেহের চেয়েও শক্তিশালী|
10আমার পিতার জন্য তোমরা য়ে কাজ করেছ তার চেয়েও অনেক কঠিন কাজ আমি তোমাদের দিয়ে করাব| কাজ আদায করার জন্য আমার পিতা তোমাদের শুধু চাবকাতেন, আমি ধারালো লোহা বসানো চাবুক দিয়ে চাবকাবো|”‘

11রহবিয়াম লোকদের তিন দিন পরে আসতে বলেছিলেন তাই ঠিক তিন দিন পরে ইস্রায়েলের লোকরা আবার রহবিয়ামের কাছে ফিরে এল|
12রহবিয়াম তখন প্রবীণদের কথা না শুনে
13তার বন্ধু-বান্ধবদের পরামর্শ অনুযায়ীবললেন, “আমার পিতা তোমাদের জোর করে বেশি খাটিযেছিল বলছো, এখন আমি আরো বেশী খাটাবো| আমার পিতা তোমাদের শুধু চাবকেছেন, আমি লোহা বসানো চাবুক দিয়ে চাবকাবো|”
14অর্থাত্ রাজা লোকদের আবেদনে সাড়া দিলেন না| প্রভুর অভিপ্রায়েই এই ঘটনা ঘটল| প্রভু নবাটের পুত্র যারবিয়ামের কাছে তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখার জন্যই এই ঘটনা ঘটালেন| শীলোনীয ভাববাদী অহিযের মাধ্যমে প্রভু যারবিয়ামের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিলেন|
15ইস্রায়েলের সমস্ত লোক দেখল নতুন রাজা তাদের আবেদনে কর্ণপাত পর্য়ন্ত করল না| তখন তারা রাজাকে এসে বলল, “আমরা কি দায়ূদের পরিবারভুক্ত? মোটেই না| আমরা কি য়িশযের জমির কোনো ভাগ পাই ? না! তাহলে দেশবাসীরা চলো আমরা আমাদের নিজের বাড়িতে ফিরে যাই| দায়ূদের পুত্র তার নিজের লোকদের ওপর রাজত্ব করুক|” একথা বলে ইস্রায়েলের লোকরা য়ে যার বাড়িতে ফিরে গেল|

16ইস্রায়েলের য়ে সমস্ত লোক যিহূদার শহরগুলিতে থাকত রহবিয়াম শুধুমাত্র তাদের ওপর রাজত্ব করেছিলেন|
17অদোরাম নামে এক জন লোক কর্মচারীদের তত্ত্বাবধান করত| রাজা তাকে ডেকে পাঠিয়ে লোকদের সঙ্গে কথা বলতে বললেন| কিন্তু ইস্রায়েলের লোকরা পাথর ছুঁড়ে তাকে মেরে ফেলল| রহবিয়াম তখন কোন মতে তাঁর রথে চড়ে জেরুশালেমে পালিয়ে গেলেন|
18অতএব ইস্রায়েলের লোকরা দায়ূদের পরিবারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল এবং এখনও পর্য়ন্ত তারা দায়ূদ পরিবার বিরোধী|
19ইস্রায়েলের সমস্ত লোক যখন যারবিয়ামের ফিরে আসার কথা জানতে পারল, তারা একটি সমাবেশের আয়োজন করে তার সঙ্গে দেখা করে তাকেই সমগ্র ইস্রায়েলের রাজা হিসেবে ঘোষণা করল| এক মাত্র যিহূদার পরিবারগোষ্ঠী দায়ূদের পরিবারের অনুসরণ করতে লাগল|
20রহবিয়াম জেরুশালেমে ফিরে গেল এবং যিহূদা ও বিন্যামীনের পরিবারগোষ্ঠীকে একত্রে জড়ো করলেন| এই দুই গোষ্ঠী মিলিয়ে মোট 1,80,000 জনের একটি সেনাবাহিনী গঠিত হল| রহবিয়াম ইস্রায়েলের লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে তার রাজত্ব উদ্ধার করতে চেয়েছিলেন|

21কিন্তু প্রভু শময়িয় নামে এক ঈশ্বরের লোকের সঙ্গে কথা বললেন| তিনি বললেন,
22“যাও যিহূদার রাজা শলোমনের পুত্র রহবিয়াম আর যিহূদার লোকরা ও বিন্যামীনকে গিয়ে ভাইযে ভাইযে যুদ্ধ করতে বারণ করো|
23ওদের সকলকে ঘরে ফিরে য়েতে বলো কারণ আমিই এই সব ঘটিয়েছি|” রহবিয়ামের সেনাবাহিনী প্রভুর আদেশ মেনে বাড়ি চলে গেল|
24শিখিম হল ইফ্রয়িমের পার্বত্য অঞ্চলের একটি শহর| যারবিয়াম শিখিমকে সুরক্ষিত ও শক্তিশালী করে সেখানেই বসবাস করতে লাগল| পরে সে পনূযেল নামে একটি শহরে গিয়ে সেটিকে সুরক্ষিত ও শক্তিশালী করেছিলো|
25যারবিয়াম মনে মনে ভাবলেন, “যদি লোকরা জেরুশালেমে প্রভুর মন্দিরে নিয়মিত যাতাযাত চালিযে য়েতে থাকে তাহলে তারা শেষ পর্য়ন্ত দায়ূদের উত্তরপুরুষদের দ্বারাই শাসিত হতে চাইবে|

26তারা আবার যিহূদার রাজা রহবিয়ামকে অনুসরণ করবে আর আমাকে হত্যা করবে|”
27তাই রাজা তার পরামর্শদাতাদের কাছে তার করণীয কর্তব্য সম্পর্কে উপদেশ চাইলেন| তাঁরা রাজাকে তাঁদের পরামর্শ দিলেন| তখন যারবিয়াম দুটো সোনার বাছুর বানিয়ে লোকদের বললেন, “তোমরা কেউ আরাধনা করতে জেরুশালেমে যাবে না| ইস্রায়েলের অধিবাসীরা শোনো, এই দেবতারাই তোমাদের মিশর থেকে উদ্ধার করেছিলেন|”
28একথা বলে যারবিয়াম একটা সোনার বাছুর বৈথেলে রাখলেন| অন্য বাছুরটাকে রাখলো দান শহরে|
29ইস্রায়েলের লোকরা তখন বৈথেলে ও দানে বাছুর দুটোকে আরাধনা করতে গেল| কিন্তু এটি অত্যন্ত গর্হিত ও পাপের কাজ হল|
30এছাড়াও যারবিয়াম উচ্চ স্থানে মন্দির বানিয়েছিল| শুধুমাত্র লেবীয়দের পরিবারগোষ্ঠী থেকে যাজক বেছে নেওয়ার পরিবর্তে সে ইস্রায়েলের বিভিন্ন পরিবারগোষ্ঠী থেকে যাজকদের বেছে নিয়েছিল|

31এরপর রাজা যারবিয়াম ইস্রায়েল উত্সবের মতো একটি নতুন ছুটির দিনের প্রবর্তন করল| অষ্টম মাসের 15 দিনে এই ছুটি পালিত হত| এসময় রাজা বৈথেল শহরের বেদীতে বলিদান করত| সে তার বানানো বাছুর দুটোর সামনে বলি দিত| রাজা যারবিয়াম বৈথেলে ও উঁচু জায়গায় তার বানানো পূজোর জায়গাগুলোর জন্য যাজকদের বেছে নিয়েছিল|
32অর্থাত্ রাজা যারবিয়াম তার সুবিধা মতো ইস্রায়েলীয়দের জন্য উত্সবের সময় বেছে নিয়েছিল| অষ্টম মাসের 15 দিনের মাথায় ঐ ছুটির দিনটিতে বৈথেল শহরে তার বানানো বেদীতে বলিদান ছাড়াও ধূপধূনো দেওয়া হতো|
33্রভু যিহূদার ঈশ্বরের প্রেরিত এক জনকে বৈথেলে যাবার জন্য এবং বেদীর ওপরে পূজো করবার বিরুদ্ধে কথা বলবার জন্য ডেকে পাঠালেন| যখন সেই ভাববাদী বৈথেলে পৌঁছলেন তখন রাজা যারবিয়াম বেদীর সামনে দাঁড়িয়ে ধূপধূনো দিচ্ছিলেন|তিনি গিয়ে ঐ য়জ্ঞবেদীকে সম্বোধন করে বললেন,
You have read 1Kings 12
33 verses